শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীনকে তার দাপ্তরিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন বিরুদ্ধে সরকারি বিধিবিধান ও অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্রে বিভিন্ন বিল প্রদানের জন্য অর্থ ও হিসাব দফতরের সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি যে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
যে কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুজন চন্দ্র পালকে আহবায়ক, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন চৌধুরীকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে একাউন্টস অফিসার সাকিজ উদ্দীন সরকারকে সাচিবিক কর্মকর্তা করা হয়েছে।
কমিটির বাহিরেও দাপ্তরিক কর্মকান্ড পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটানো এবং সরকারি অর্থ তছরুপের পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীনকে তার দাপ্তরিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়। নিদের্শনার যে পত্রে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ এবং অভিযোগকৃত বিল-ভাউচার সমূহের অসম্পূর্ণতা ও পিপিআর এর সাথে অসামঞ্জস্যতা নিরীক্ষনের ও বিধিগত ব্যবস্থা লক্ষে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলাকালীন সময় এবং কমিটির পর্যবেক্ষন ও সুপারিশ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম স্বাধীনভাবে নিষ্পত্তির স্বার্থে পত্র প্রাপ্তির পর থেকে দাপ্তরিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে।
কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিষ্ট্রার সালমান খান বলেন, এ বিষয়ে চিঠি গত মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়ায় তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমি একটি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ থাকায় আজ রোববার (১৩ অক্টোবর) ছুটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। আর আজ তদন্ত কমিটি ও দাপ্তিরিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশের চিঠি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে খোজ নিয়ে জানাগেছে, এরআগে একটি পত্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে অসত্য ও এখতিয়ার বিহর্ভূত এবং মানহানিকর বক্তব্য দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন। যে কারনে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিষ্ট্রার সালমান খান তাকে একটি কারন দর্শানোর নোটিশ করেন। একইদিনে অপর এক কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় এই নির্বাহী প্রকৌশলীকে। যেখানে তিনি ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন বলেন, অর্থ ও হিসাব দফতরে সহকারী পরিচালক পদে মোঃ আতিকুর রহমান নামে কেউ নেই। আর এ নিয়ে আমি তাকে কোন হুমকি-ধামকিও দেইনি বরং তিনি আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। আর অন্যান্য অভিযোগগুলোও সত্য নয় বলে মনে করেন তিনি। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
তবে অর্থ ও হিসাব দফতরের সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, কে কোন দফতরে রয়েছেন বা থাকবেন সে বিষয়ে দেখভালের এখতিয়ার রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না, কারন তিনি প্রকৌশল দফতরের কর্মকর্তা। নির্বাহী প্রকৌশলী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি যে অভিযোগ দিয়েছে তা শতভাগ সত্য, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন অনৈতিকভাবে বিভিন্ন বিল প্রদানের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। বিল দিতে বাধ্য করেছেন এবং অস্বিকৃতি জানালে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকিও দিয়েছেন। আমি বলবো বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মানসহ যে কাজগুলো তিনি করিয়েছেন সেগুলো খতিয়ে দেখা হোক। সাহস নিয়েই আমি অভিযোগ দিয়েছি, চাই বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নিতীমুক্ত থাকুক।